এই বই সম্পর্কে
রাক্ষুসে আঁধার কুঁজো বুড়িকে ডাকে আয়, আয়...। রাত রাত বুড়ি হাওর, মাঠ গোরস্থান ধরে হাঁটে...হাঁটে। হাওরের ঘাটে বেদে বহরের আখড়া । সেই আখড়ায় সাপের মতো ফনকনা, জেদি চন্দ্রানীর বাস। পরপর দুই বিবাহের দুর্বিষহ স্মৃতি বুকে নিয়ে সে সাপের পায়ের ছাপ ধরে ধরে অন্ধকার গহিন জঙ্গলে খোঁজে গর্ত। বিকটাকার এই বিষাক্ত সাপটির টুটি চেপে ধরে নাচাতে নাচাতে বহরের মধ্যে সে ভয় ঢুকিয়ে দেবে। পূর্ণিমার জলের মধ্যে মাঝির ছেলের কুতবুদ্দিনের দেহ ভাসে। মধ্যরাতের জ্যোৎস্নালোকিত হাওরের পথ ধরে এই নয়নপুর গ্রামে এসে উপস্থিত হয় তিরিশ বছরের আগের ওসমান । একটা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তিরিশ বছর আগে যে গ্রাম থেকে শহরে পালিয়ে গিয়েছিল । শহরের জীবনটায় ওসমান ছিল জীবনস্মৃতের মতন। বুকের মধ্যে ‘নয়নপুর' পুষে সে শহরে নিজেকে সারাজীবন তাপ-উত্তাপহীন বোধ করত । এই বোধ নিয়ে সে আকাঙ্ক্ষী হয়ে শহরের কিছুকে স্পর্শ করতে পারে নি। গ্রামে এসে উদ্ভ্রান্ত, আবেগ প্লাবিত হয়ে ওঠা সে নয়নপুরের মাটির হাড়-মাংসে নিজের ছায়া খুঁজতে খুঁজতে আবিষ্কার করে—সময় বড় নিষ্ঠুর। নয়নপুর! কোনো বিশেষ অঞ্চলের নাম নয় । এই দেশের অসংখ্য হাওর পার্শ্ববর্তী গ্রামের যে-কোনো একটি গ্রামের নাম নয়নপুর । যে গ্রামকে আচ্ছন্ন করে আছে দোররার শাস্তি, জিন-পরী, ধর্মের কুসংস্কার আর প্রভাবশালী মানুষের নির্মম শোষণ । গ্রামের তেমনই প্রভাবশালী মানুষ মন্নাফ খাঁ নিজের বাড়িতে ওসমানকে জায়গা দিয়েও আতঙ্ক, যন্ত্রণা, সন্দেহের ঘূর্ণিজলে মৃত্যু পাক খায়—ওসমান আসলে কে ? বস্তাভর্তি জিন পোষে যে কুঁজো বুড়ি, সে ওসমানকে বলে, জন্মের সময় তুই যখন মরতি বইছিলি, তুর বুকে তহন আমি পাখির পরান পুঁইতে দিছি। ঝাঁক ঝাঁক শীতপাখি ওসমানের বুকের মধ্যে এসে বসে......
বইয়ের বিস্তারিত
- ভাষা
- বাংলা
ট্যাগসমূহ
- রহস্য ও থ্রিলার
পাঠকের মতামত
অন্য পাঠকদের মতামত পড়ুন, অথবা নিজের অভিজ্ঞতা জানান।
আপনার পড়ার অভিজ্ঞতা জানান
বইটিকে রেটিং বা রিভিউ দিতে আপনার গ্রাহক অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করুন।
রিভিউ লিখতে লগইন করুন