সরকারি খাতায় নাজমুল হাসান মৃত, তাঁর নামে শনাক্ত একটি লাশ বাবার পাশে দাফন করা হয়েছে, আর পরিবারও সত্যটা জানত। কবরে কে এবং কেন তাঁর পরিচয় নিয়ে বেঁচেছিল, সেই অনুসন্ধান পরিচয়, অপরাধবোধ ও পরিবারের গোপন সত্যের মুখোমুখি করে তাঁকে।
- Pages
- 283
- Language
- Bangla
- Published
- 2026
- Publisher
- ইবুক ডিজিটাল মিডিয়া
About this book
আমি বেঁচে আছি। সবচেয়ে অবাক হওয়ার কথা ছিল আমার পরিবারের। তারা অবাক হলো না। ঢাকার একটি বায়িং হাউসে হিসাবরক্ষকের কাজ করেন নাজমুল হাসান। আট বছর ধরে তিনি গ্রামে যাননি, বাবার জানাজায়ও না। পাসপোর্টের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখের নয় দিনের গরমিল ঠিক করাতে নির্বাচন অফিসে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি খাতায় তিনি মৃত। শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া একটি লাশের পকেটে ছিল তাঁর পরিচয়পত্র। ছোট ভাই লাশটি শনাক্ত করেছে, পরিবার তা গ্রহণ করেছে, আর বাবার কবরের পাশে তাঁর নামেই দাফন হয়েছে। বাড়িতে ফোন করলে মা শান্ত গলায় শুধু জানতে চান, তিনি খাওয়াদাওয়া করেন কি না। সত্য খুঁজতে নাজমুল পৌঁছান নারায়ণগঞ্জের থানা ও মর্গে, ভুয়া পরিচয়পত্রের দালালের খাতায়, কারখানা শ্রমিকদের মেসে এবং উত্তরের এক নদীচরে। ধীরে ধীরে বোঝা যায়, এটি শুধু ভুল শনাক্তকরণের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামের প্রভাবশালী মানুষের চাপ, পারিবারিক জমির হিসাব এবং আট বছর আগের এমন এক অভিযোগ, যা থেকে নাজমুল নিজেই পালিয়ে এসেছিলেন। নিজেকে কাগজে জীবিত করতে হলে তাঁকে সেই অচেনা মানুষটিকে তার আসল নাম ফিরিয়ে দিতে হবে। আর তার মূল্য দিতে হতে পারে নিজের পরিবারকে। পরিচয়, অপরাধবোধ, পরিবার ও মায়ের ভালোবাসা নিয়ে লেখা এই উপন্যাসের প্রশ্নটি সহজ: একজন মানুষের নাম আসলে কার? উত্তরটি সহজ নয়। যাঁদের ভালো লাগবে: বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটের সামাজিক রহস্য, পারিবারিক নাটক, পরিচয় সংকট ও সংযত আবেগের উপন্যাসের পাঠক।
Overview
সরকারি নথিতে নিজেকে মৃত আবিষ্কার করা এক জীবিত মানুষের অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে পরিচয়, অপরাধবোধ, পরিবার, শ্রেণি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন নিয়ে লেখা বাংলাদেশি সামাজিক রহস্য উপন্যাস।
